বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ৯নং জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে বাংলাদেশ সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ওএমএস (OMS) প্রকল্পের আওতায় কার্ড প্রদান ও নবায়নের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ডিলার নিজাম বাঘার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নতুন কার্ড দেওয়ার কথা বলে ৫০০টিরও অধিক কার্ডধারীর কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড প্রকৃত উপকারভোগীদের বিনামূল্যে প্রদান করার কথা। এ ধরনের অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, সরকারিভাবে একজন কার্ডধারীকে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে ২৬ থেকে ২৭ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলো সরকারি সহায়তার আশায় এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অভিযোগ চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ফুড অফিসার)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে নতুন কোনো কার্ড বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। আগের বরাদ্দের চাল বিতরণ করা হয়েছে, তবে নতুন বই বা কার্ড দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
অভিযোগের বিষয়ে ডিলার নিজাম বাঘার সঙ্গে কথা হলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ৫০০ কার্ডধারীর কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠলেও তিনি দাবি করেন, তিনি মাত্র ১০০টি কার্ডধারীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। তবে কী কারণে এই টাকা নেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ জানিয়ে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
৯নং জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের অসহায় মানুষের অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
