মেহেন্দিগঞ্জে একই দিনে চার দফা সংঘর্ষ, নারীসহ উভয় পক্ষের ৬ জন গুরুতর আহত।

লেখক: নিউজ ডেস্ক: মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিদিন
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ৯ নং জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের ভোলানাথ গ্রামে একই দিনে ৪ দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে। জানা যায়, বরিশালের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে (হোন্ডা) করে যাচ্ছিলেন আব্বাস দফাদার ও রিয়াজ। পথে তাদের গতিরোধ করে কামাল হাওলাদার, সোলেমান দর্জি, আমিন দর্জি, বনি আমিন, আলাউদ্দিন ফকির ও রাসেল বেপারী হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা মূলত বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক সোহাগ হাওলাদারের সমর্থক। অন্যদিকে, আক্রান্তরা ৯ নম্বর জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজাদ হাওলাদারের সমর্থক বলে জানা গেছে।

 দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ
প্রথম ঘটনার পরপরই চর শেফালী বাজারে সাইফুল নামের এক দর্জির ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে অভিযুক্ত করা হয় ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন ঘরামি, আলী ঘরামি ও তাদের সঙ্গে থাকা আরও চার-পাঁচজনকে।

তৃতীয় দফা হামলা ও লুটপাট

একই দিনে পরবর্তীতে আলী বয়াতি, নূরনবী বয়াতি, জাহাঙ্গীর চৌকিদার ও শাহ আলম চৌকিদারের বাড়ি ও দোকানে হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ জামাল হালাদার, কামাল হাওলাদার ও হারুন হাওলাদারের বসতঘরে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

আহত ও চিকিৎসা

বসতঘরে ভাঙচুরের সময় মারিয়া আক্তার ও রোজিনা আক্তার আহত হন। সব মিলিয়ে ছয়জন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযুক্তের বক্তব্য

ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সুমন ঘরামি দাবি করেছেন, তিনি সাইফুল দর্জির ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত নন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানা-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে এসআই সালেম ও জসিমের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।