মেহেন্দিগঞ্জে প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে বাইকুনু জাতের আঙুর চাষ, ১১ মাসেই ফলন

লেখক: রায়হান হাওলাদার। মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিদিন
প্রকাশ: ৪ মাস আগে
ছবিঃ আবদুল্লাহ হানিফ

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা-এর ১০ নং আলিমাবাদ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আলিমাবাদ গ্রামের কাজিরহাট খালের অপর পাশে মোস্তফা বাজার যাওয়ার সড়কের পাশে একটি মাছের ঘেরে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে বাইকুনু জাতের আঙুর চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষক আরিফ বিল্লাহ জানান, প্রায় ১১ মাস আগে ঝিনাইদহ থেকে ৮০০টি বাইকুনু জাতের আঙুরের চারা এনে রোপণ করা হয়। ব্লেজার-১০ মাটিতে গড়ে তোলা এই বাগানের মোট আয়তন প্রায় ২ একর ৮৫ শতাংশ। চারা রোপণে খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা এবং চাষাবাদ, পরিচর্যা ও অবকাঠামোসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। পুরো বাগান সম্পন্ন করতে মোট খরচ হবে প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
তিনি আরও জানান, ৮০০টি গাছের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২৫০টি গাছে ফল এসেছে। প্রতিদিন স্থানীয় বাজারে প্রায় ১০ কেজি করে আঙুর বিক্রি করা হচ্ছে, যেখানে প্রতি কেজি আঙুরের দাম রাখা হচ্ছে ৪০০ টাকা।
আরেক কৃষক মোঃ আবু হানিফ বলেন, প্রতিটি আঙুর গাছে কমপক্ষে ১৫ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই গাছের জীবনকাল ৩৫ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া বাইকুনু জাতের আঙুর বছরে দুইবার ফল দেয় বলেও জানান তিনি।
জানা যায়, ৮ নং চর গোপালপুর এলাকার মালিক টিপু মিয়ার কাছ থেকে প্রতি বছর ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে জমি নেওয়া হয়েছে। মাত্র ১১ মাস বয়সী গাছে ফলন ও বিক্রি শুরু হওয়ায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
বাইকুনু জাতের আঙুর রাশিয়ার একটি জনপ্রিয় হাইব্রিড জাত, যা বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছে। এর ফল লম্বাটে ও গাঢ় বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। একেকটি থোকার ওজন ৫০ গ্রাম থেকে ২.৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। মিষ্টি-টক স্বাদের এই আঙুরে চিনির পরিমাণ প্রায় ২০ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট কৃষকরা জানান, ফেব্রুয়ারিতে ফুল আসার পর মাত্র ৪ মাসের মধ্যেই ফল পেকে যায়। একটি গাছ থেকে ২০ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই জাতটি স্ব-পরাগায়িত, ঠান্ডা সহনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। ফলে ছাদ বাগান থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বাগান—সবখানেই লাভজনকভাবে এই আঙুর চাষ করা সম্ভব।
স্থানীয়রা বলছেন, মেহেন্দিগঞ্জের চরাঞ্চলে এ ধরনের আধুনিক ফল চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। কৃষকরাও আশাবাদী, সঠিক পরিচর্যা ও সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আঙুর চাষ এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।