৩৬ বছর ধরে সুরের সাধনায় মেহেন্দিগঞ্জের মিজানুর রহমান

লেখক: নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে
মিজানুর রহমান

সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এক অনন্য শিল্প। সেই শিল্পের সাধনায় জীবনের দীর্ঘ ৩৬ বছর পার করেছেন মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালিকাপুর গ্রামের মো. মিজানুর রহমান। দীর্ঘ এই পথচলায় নিজে সংগীতচর্চার পাশাপাশি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে সংগীতের তালিম দিয়ে গড়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর কাছে শিক্ষা নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী আজ বিভিন্ন মঞ্চ ও গণমাধ্যমে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন।

মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার কালিকাপুর গ্রামের সন্তান মিজানুর রহমান। তাঁর পিতা আবুল হোসেন মোক্তার। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। সেই ভালোবাসাকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে দীর্ঘদিন ধরে সংগীতের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন তিনি।

শিক্ষাজীবনেও কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন মিজানুর রহমান। ১৯৮৯ সালে সরকারি পাতারহাট মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৯১ সালে সরকারি কবি নজরুল কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। সংগীতের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে ঢাকার বুলবুল ললিতকলা একাডেমি (বাফা) থেকে ডিপ্লোমা কোর্সও সম্পন্ন করেন।

সংগীত শিক্ষক হিসেবে মিজানুর রহমান বিশেষভাবে পরিচিত শাস্ত্রীয় সংগীতে তাঁর দক্ষতার জন্য। ৩৬ বছরের সংগীতজীবনে নিজের লেখা প্রায় ৩০টি গান রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের সংগীতের তালিম দিয়ে আসছেন তিনি।

তাঁর শিক্ষার্থীদের মধ্যে শওকত হোসেন উথান উল্লেখযোগ্য। ২০১৮ সালে মাই টিভিতে সংগীত পরিবেশনের সুযোগ পান তিনি। এছাড়া মিজানুর রহমানের আরেক শিক্ষার্থী অর্পিতা দে ২০১৫ সালে বরিশালের আঞ্চলিক পর্যায়ে সংগীত পরিবেশনের সুযোগ পান। তাঁর কাছে শিক্ষা নেওয়া আরও অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন মঞ্চ ও গণমাধ্যমে সংগীত পরিবেশনের সুযোগ পেয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যকে নিজের দীর্ঘদিনের সংগীতচর্চা ও শিক্ষকতার অন্যতম প্রাপ্তি হিসেবে দেখেন মিজানুর রহমান। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিভাকে বিকশিত করতে হলে নিয়মিত অনুশীলন, শৃঙ্খলা, গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা এবং সংগীতের প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকা জরুরি।

তাই তিনি শুধু গান শেখানোর মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। শিক্ষার্থীদের সংগীতের প্রতি ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলারও চেষ্টা করে চলেছেন।

৩৬ বছরের দীর্ঘ সংগীতযাত্রায় মিজানুর রহমান আজ শুধু একজন সংগীত শিক্ষক নন; তিনি মেহেন্দিগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। নিজের সাধনা ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মাঝে সংগীতের আলো ছড়িয়ে দেওয়াই যেন তাঁর দীর্ঘ পথচলার সবচেয়ে বড় অর্জন।