রাজধানীর সদরঘাটে সংঘটিত মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ১১ নম্বর চানপুর ইউনিয়নের সোহেল ফকিরের ঘরে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছে। শোকাবহ এই পরিবারের জন্য নবজাতকের আগমন যেন একদিকে আনন্দের বার্তা, অন্যদিকে বেদনাময় স্মৃতির নতুন অধ্যায়।
জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দুই দিন আগে ঢাকা থেকে মেহেন্দিগঞ্জে ফেরার পথে সদরঘাট এলাকায় দুটি লঞ্চের চাপে পড়ে নিহত হন সোহেল ফকির। একই দুর্ঘটনায় তার বাবা মিরাজ ফকির গুরুতর আহত হয়ে নদীতে পড়ে যান। পরে দুই দিন পর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গ্রামের বাড়িতে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পরিবারটি অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়ে। নিহত সোহেল ফকির রেখে গেছেন তিন বোন, বৃদ্ধ মা এবং অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে। পরিবারের সদস্যরা তখনও কল্পনা করেননি, শোকের মাঝেই নতুন জীবনের আগমন ঘটবে।
দুর্ঘটনার কয়েক মাস পর আজ সোহেল ফকিরের স্ত্রীর কোলজুড়ে এসেছে এক পুত্র সন্তান। নবজাতকের জন্মে পরিবারে কিছুটা স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হলেও বাবা ও দাদার অনুপস্থিতি সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তুলেছে।
স্থানীয়রা জানান, নবজাতক সন্তানটি এখন নিহত সোহেল ফকিরের স্মৃতির উত্তরাধিকার বহন করবে। একই সঙ্গে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
