শ্রীপুরে প্রকাশ্যেই চলছে বালুবাহী জাহাজে চাঁদাবাজি, নেপথ্যে যারা।

লেখক: নিউজ ডেস্ক | মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিদিন
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

মেহেন্দিগঞ্জের শ্রীপুরে বালুবাহী জাহাজে চাঁদাবাজির অভিযোগ

চাঁদা না দিলে মারধরের অভিযোগ; কমেছে বালুবাহী জাহাজ সংখ্যা, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় ব্যবসা

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ১৪ নং শ্রীপুর ইউনিয়নে নদীর পাড়ে বালুবাহী জাহাজ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিদিন জাহাজপ্রতি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা আদায়ের এই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বালুবাহী জাহাজগুলো রাতে ওই নদীপাড়ে নোঙর করে বিশ্রাম নিতো কিংবা বেঁধে রাখা হতো। এই সুযোগকে কেন্দ্র করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয়  আজিজ হালদারের ছেলে রকিবুলসহ আরও কয়েকজন প্রতিটি বালুবাহী জাহাজ থেকে দৈনিক ২০০ টাকা করে আদায় করছেন। উল্লেখ্য, আজিজ হাওলাদার ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, কোনো বালুবাহী জাহাজ মালিক বা স্টাফ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধরের মতো ঘটনাও ঘটেছে। গত প্রায় ছয় মাস ধরে এই চাঁদাবাজি চলছে বলে দাবি করেন তারা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আগে প্রতিদিন ওই এলাকায় ৩০ থেকে ৩৫টি বালুবাহী জাহাজ  নোঙ্গর করে থাকতো কিন্তু বর্তমানে চাঁদার চাপে অনেক জাহাজ এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।

এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বালুবাহী জাহাজের শ্রমিকদের কাছে তারা তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করতেন। কিন্তু জাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাদের বিক্রি কমে গেছে এবং তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এ বিষয়ে একাধিক বালুবাহী জাহাজের মালিক মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিদিন-কে একই ধরনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ নৌ পরিবহন ফেডারেশন, মেহেন্দিগঞ্জ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান বলেন, “নদীতে আমাদের কোনো লোক চাঁদা আদায় করে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। রকিবুলসহ যারা এসব করছে, তা সম্পূর্ণ চাঁদাবাজি।”

তবে অভিযুক্ত রকিবুলের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।