বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর জাংগালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাদের ফরাজী ও স্থানীয় কয়েকজন মেম্বারের বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, এসব অভিযোগের পক্ষে তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ্যে আসলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে সরকারি বরাদ্দের জেলেকার্ডের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় জেলেরা ও সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলেদের সহায়তায় সরকার থেকে বরাদ্দকৃত ২ হাজার ৩৮০টি জেলেকার্ডের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কার্ডের চাল জেলেদের মাঝে বিতরণ করা হলেও বাকি ৪৮০ কার্ডের চাল বিতরণ না করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চালগুলো লেঙ্গুটিয়া রাস্তার মাথায় একটি পন্টুন রুমে মজুত অবস্থায় দেখা গেছে, এবং সেখান থেকে অটো করে অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।যা নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিতরণ না হওয়া চালের অর্থ বিভিন্ন খরচ হিসেবে ব্যয় করা হয়েছে। তবে প্রায় ১২ লাখ টাকার এই ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব বা ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। তার এই অস্পষ্ট জবাব স্থানীয়দের মাঝে আরও প্রশ্ন ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।এ বিষয়ে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের ফরাজির কাছে জানতে চাইলে তিনি ঢাকা আছে বলে জানান ও তার ভাগিনা মো মুসার কাছে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ইউনিয়ন পরিষদে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে এসব অনিয়ম যেন ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
সচেতন মহল বলছে, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তা আত্মসাতের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় এ ধরনের অনিয়ম ও লুটপাট ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে প্রকৃত জেলেরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।
