মেহেন্দীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধ, আমবাগানের গাছ কেটে ঘর তোলার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

লেখক: নিউজ ডেস্ক। মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিদিন
প্রকাশ: ১ মাস আগে

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ১০ নং আলিমাবাদ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের চরমহিষা বাজারসংলগ্ন এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে আম ও লিচুবাগানের গাছ কেটে ঘর নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা বাহাউদ্দীনের বিরুদ্ধে। গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে ২ নং ওয়ার্ডের চরমহিষা বাজারসংলগ্ন এলাকায় ডাক্তার কুতুবউদ্দিন টগনের বড় ছেলে জাহিদ তার বাবার মালিকানাধীন জমিতে আম ও লিচুর বাগান করেন। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি নিয়ে কোনো বিরোধ না থাকলেও সম্প্রতি জমির মালিকানা দাবি করাকে কেন্দ্র করে বাহাউদ্দীনের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করা হয় এবং সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমি পরিমাপ করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।

তবে বাহাউদ্দীনের দাবি, সালিশে তার পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ডাক্তার কুতুবউদ্দিন টগনের দাবি, সালিশদাররা বাহাউদ্দীনের পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। তার দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি তার দাদার রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি।

সালিশে উপস্থিত থাকা স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সালিশদাররা বাহাউদ্দীনকে ওই জমিতে ঘর নির্মাণ কিংবা গাছ কাটার কোনো অনুমতি দেননি। এরপরও তিনি সেখানে থাকা আম ও লিচুগাছ কেটে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগকারী ডাক্তার কুতুবউদ্দিন টগন জানান, বাহাউদ্দীন তার জমির ছয়টি আমগাছ ও দুটি লিচুগাছ কেটে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেন। ৯৯৯ ফোন দিলে পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘর নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ১০ নং আলিমাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব ভুঁইয়া বলেন, “এখানে বাহাউদ্দীনের জমি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি। আমরা তাকে বলেছি, এখানে তুমি জমি পাবে না। এরপরও সে আমাদের কথা অমান্য করে নিজ ইচ্ছায় সেখানে ঘর তুলেছে। তবে বিএনপি কখনোই অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবে না, সে যেই হোক।”

সালিশে উপস্থিত থাকা আসাদুল আকন ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি কবির সরদারও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তাদের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি এবং বাহাউদ্দীন সেখানে মালিকানা দাবি করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘর নির্মাণের আগে তিনি ছয়টি আমগাছ ও দুটি লিচুগাছ কেটে ফেলেছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘর নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।

এদিকে, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অভিযুক্ত  বাহাউদ্দিন জানিয়েছেন এই জমি আমার রেকর্ড ভুক্ত সম্পত্তি আমার জমিতে আমি ঘর নির্মাণ করেছি বরং তারা আমার জমিতে আম গাছ এবং লিচু গাছ লাগিয়েছে সেটা আমি কেটে ঘর নির্মাণ করে আমার জমি আমি উদ্ধার করেছি।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের মাহমুদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তিনি অন্যের জায়গায় ঘর তুলছেন—এমন বিষয়টি সম্পর্কে আমরা এখনো অবগত নই। তবে সত্যিই যদি তিনি অভিযুক্ত প্রমাণিত হন এবং দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে মেহেন্দীগঞ্জ থানার এএসআই অনিমেষ বলেন, “৯৯৯-এ কল পাওয়ার ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘর নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিই। উভয় পক্ষকে আইনগতভাবে বিষয়টির সমাধানের জন্য বলা হয়েছে।”

কবির সরদার আরও জানিয়েছেন, রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তির ভিতরে কাউকে কোনো জায়গা দেওয়া সালিশদারের পক্ষে সম্ভব নয়, এমনকি কোনো আইনের পক্ষেও সম্ভব নয়। বাহাউদ্দিন যদি ওই জায়গায় ঘর নির্মাণ করে থাকেন, তাহলে এটি সম্পূর্ণ বেআইনি, আমরা এর পক্ষে নই।

স্থানীয়দের দাবি, জমিটির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু নিষ্পত্তি করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।