মেহেন্দিগঞ্জে ভিন্ন এক ঈদ: ঝড়, বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও কোরবানি নিয়ে ভোগান্তিতে মানুষ

লেখক: নিউজ ডেস্ক।
প্রকাশ: ১ সপ্তাহ আগে

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় এবার ঈদুল আজহা এসেছে এক ভিন্ন বাস্তবতায়। ঈদের আগের দিন বিকেলে হঠাৎ তীব্র ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ায় উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের প্রায় সব এলাকাতেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা ঈদের আনন্দকে অনেকটাই ম্লান করে দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উলানিয়া ,আলিমাবাদ, কাজীরহাট, শ্রীপুর, চর গোপালপুর, জাঙ্গালিয়া, মেহেন্দিগঞ্জ সদর, চাঁনপুর, আন্দারমানিক, লতা, বিদ্যানন্দনপুর, গোবিন্দপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রাতভর বিদ্যুৎ ছিল না। ঈদের দিন সকালে পাতারহাট সদর এলাকায় সীমিতভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলেও অধিকাংশ অঞ্চলে তখনও বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি।

বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন কোরবানিদাতারা। স্থানীয়দের দাবি, বৈরী আবহাওয়া ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ নির্ধারিত সময়ে কোরবানির পশু জবাই করতে পারেননি। অনেকেই ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণ করতে না পারার আশঙ্কায় কোরবানি বিলম্ব করেন।

এদিকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বিঘ্ন ঘটে। কিছু কিছু এলাকায় স্থানীয়রা জেনারেটরের মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে মোবাইল ফোন চার্জ, ইন্টারনেট সংযোগ এবং জরুরি সেবাগুলো চালু রাখার চেষ্টা করছেন।

ঝড়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়া, টিনের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। ঈদের দিনে এমন দুর্ভোগে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছ দ্রুত অপসারণ করে বিদ্যুৎ লাইন পুনরায় চালু করতে কাজ করছে বিদ্যুৎ বিভাগের একাধিক টিম। তারা আশা প্রকাশ করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।