মেহেন্দিগঞ্জে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে শিক্ষা অফিসে শিক্ষকদের দৌড়ঝাঁপের অভিযোগ।

লেখক: নিউজ ডেস্ক। মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিদিন
প্রকাশ: ১ মাস আগে

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এখন এক রহস্যময় দুর্গে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একদল শিক্ষক-শিক্ষিকার আনাগোনা সাধারণ মানুষের মনে জন্ম দিচ্ছে নানা প্রশ্ন। যাদের থাকার কথা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে, তারা দিনের পর দিন শিক্ষা অফিসের বারান্দায় ও কর্মকর্তার রুমে সময় কাটাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, একদল নামধারী শিক্ষক নেতা ও সমিতির সদস্যরাই মূলত নিয়ন্ত্রণ করছেন পুরো শিক্ষা অফিস।
​স্কুল ফেলে অফিসে কেন?
​অনুসন্ধানে দেখা যায়, মেহেন্দিগঞ্জের বেশ কিছু শিক্ষক স্কুলে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে নিয়মিত শিক্ষা অফিসের আশেপাশে ‘ঘুরঘুর’ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সাধারণ শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
​”আমাদের সামান্য প্রয়োজনে অফিসে গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, অথচ এই সিন্ডিকেট সদস্যরা সারাক্ষণ শিক্ষা অফিসারের রুম দখল করে বসে থাকেন। মনে হয় যেন তারাই অফিসের আসল হর্তাকর্তা।”
পাহারাদারের ভূমিকায় শিক্ষক নেতা!
​সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই শিক্ষক নেতারা শিক্ষা কর্মকর্তার অনেকটা ‘পাহারাদার’ হিসেবে কাজ করেন। এমনকি পেশাদার সাংবাদিকরা পেশাগত কাজে শিক্ষা অফিসে প্রবেশ করলে বা কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে চাইলে, ওই শিক্ষকরাই উল্টো প্রশ্ন করেন— “কেন আসছেন? কি কাজ?”। শিক্ষা অফিসারের রুমে কেউ কোনো তথ্য বা সমস্যার কথা বলতে গেলে তারা পাশে বসে কথা শোনেন এবং অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তার হয়ে তারাই উত্তর দেন।
টেন্ডার ও বদলি বাণিজ্যের নেপথ্যে
​অভিযোগ রয়েছে, মেহেন্দিগঞ্জে স্কুলের টেন্ডার, গাছ বিক্রি থেকে শুরু করে শিক্ষকদের বদলি— সবকিছুতেই এই সিন্ডিকেটের পরামর্শ নিতে হয়। অভিযোগের তীর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের দিকেও। জানা গেছে, কর্মকর্তাদের নানা অনিয়ম ঢাকতে এই শিক্ষকদের ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিনিময়ে এই সুবিধাভোগী শিক্ষকরা স্কুলে না গিয়েও দিব্যি বেতন-ভাতা ভোগ করছেন এবং প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ শিক্ষকদের ওপর খবরদারি করছেন।
​সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
​শিক্ষক সমিতির এসব নেতার স্কুলে সময় না দিয়ে অফিসে বসে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সাধারণ শিক্ষকরা বলেন, কর্মকর্তাদের প্রশ্রয়েই তারা আজ বেপরোয়া। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা এড়িয়ে যান।