মেহেন্দিগঞ্জে বিদ্যুৎ অফিসের পাশে থেকেও বিদ্যুৎহীন পরিবার, ৫ বছরেও মেলেনি আলো।

লেখক: Imran Khan
প্রকাশ: ১ মাস আগে

বিদ্যুৎ অফিসের পাশেই অন্ধকার: মেহেন্দিগঞ্জের শাহজাহান হাওলাদারের আর্তনাদ

সারা দেশে যখন শতভাগ বিদ্যুতায়নের জয়গান গাওয়া হচ্ছে, তখন বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় দেখা গেছে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন বাস্তবতা। সদর ইউনিয়নের ধুলিয়া মধ্যের চর এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার। বিস্ময়কর বিষয় হলো, তার ঘরটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস ও পাওয়ার হাউসের একেবারে সংলগ্ন হওয়া সত্ত্বেও সেখানে পৌঁছায়নি বিদ্যুতের আলো।

অন্ধকারের নেপথ্যে ‘২০ হাজার টাকা’

শাহজাহান হাওলাদারের অভিযোগ, দীর্ঘ পাঁচ বছর আগে বিদ্যুতের জন্য আবেদন করলেও আজ পর্যন্ত সংযোগ মেলেনি। অভিযোগ উঠেছে, সংযোগ দেওয়ার বিনিময়ে তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। চরম আর্থিক অনটনে থাকা শাহজাহানের পক্ষে এই বিশাল অংকের টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। ফলে আশেপাশের প্রতিটি ঘর বিদ্যুতের আলোয় ঝলমল করলেও, শাহজাহানের জীর্ণ ঘরটি এখনও অন্ধকারের কবলে।

মানবেতর জীবনযাপন

তীব্র গরমে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে শাহজাহান হাওলাদারের দিন কাটছে চরম দুর্ভোগে। একদিকে বার্ধক্যজনিত কষ্ট, অন্যদিকে বিদ্যুতহীন রুদ্ধশ্বাস পরিবেশ—সব মিলিয়ে পরিবারটি এক অমানবিক পরিস্থিতির শিকার। স্থানীয়দের মতে, যেখানে বিদ্যুৎ বর্তমান যুগে একটি মৌলিক অধিকার, সেখানে বিদ্যুৎ অফিসের এত কাছে থেকেও একটি পরিবার কেন বঞ্চিত থাকবে, তা নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ

বিদ্যুৎ সংযোগকে ‘ন্যায্য অধিকার’ উল্লেখ করে শাহজাহান হাওলাদার এখন মাননীয় প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তিনি চান কোনো অবৈধ লেনদেন ছাড়াই যেন তার ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলে ওঠে।

জনগণের দাবি:

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি সেবার নামে এমন বৈষম্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং শাহজাহান হাওলাদারের পরিবারকে অন্ধকার থেকে মুক্তি দেওয়া এখন সময়ের দাবি।